গত বছর দেশের পুঁজিবাজারের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। এর ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে নতুন বছরেও। ২০২৫ সালের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গিয়েছিল। যদিও গতকাল পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমে গেছে। বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকটের কারণেই মন্দা ভাব দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল লেনদেনের শুরুর পরই সূচকে নিম্নমুখিতা দেখা যায়। লেনদেনের ৪০ মিনিট পর সূচক দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানে ছিল। তবে এর পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপে ক্রমে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৩১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সূচকের পতেন সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও পাওয়ার গ্রিডের শেয়ার। এর মধ্যে বিএটিবিসি ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারদর কমার কারণে ১০ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচক।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মন্দা দেখা যাচ্ছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক ও আর্থিক ফলাফলেও এর প্রতিফলন ঘটেছে। অনেক কোম্পানিই আগের তুলনায় কম লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তাছাড়া প্রান্তিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানিগুলোর ব্যবসা ও মুনাফা কমেছে। কেউ কেউ লোকসানের মধ্যেও পড়েছে। বিদ্যমান এ চ্যালেঞ্জিং অবস্থা আরো দীর্ঘ হবে বলেই মন হচ্ছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জেঁকে বসা মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের আর্থিক সক্ষমতা কমে গেছে। অনেকেই সঞ্চয় ভেড়ে ফেলছেন। তবে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক ও ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়ালে পুঁজিবাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর বড় অংকের পরিচালন মুনাফা ঘোষণার খবরে গতকাল ব্যাংকের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
গতকাল ডিএসইতে ৩১৩ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৩০ কোটি টাকা। এদিন লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৯৮টির, কমেছে ২২৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৭১টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ ছিল ব্যাংক খাতের দখলে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ১০ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত ৮ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। পঞ্চম অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের লেনদেন হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে ব্যাংক, সিরামিকস ও বস্ত্র বাদে বাকি সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে পাট খাতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে ১ দশমিক ৭ ও এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।